ফ্যাশনটা মুখোশ, স্টাইলটা হল মুখশ্রী

ভাব-সম্প্রসারণ: অপসংস্কৃতি অনুসরণ ও লালন করাই হলো মুখোশ। আর স্বকীয়তাই হলো স্টাইল; সৌন্দর্য; অর্থাৎ-মুখশ্রী। মানুষের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যই প্রকৃত বৈশিষ্ট্য। প্রকৃত সত্তার সৌন্দর্যও সেখানেই। মানুষের স্বকীয়তা নিজস্ব দাবিতে ভাস্বর থাকবে-এটাই স্বভাবিক।

মানবজাতি খুব বেশি অনুকরণপ্রিয়। নিজেদের স্বকীয়তা ভুলে গিয়ে অন্যকে অনুকরণ করতে পছন্দ করে। রবীন্দ্র যুগে অনেক কবি-সাহিত্যিকগণও স্বকীয়তা ভুলে গিয়ে রবীন্দ্র বলয়ে ঢুকে পড়েন। আবার যুগের তালেই মানুষ নিজ সংস্কৃতি ভুলে আগ্রাসী সংস্কৃতি গ্রহণ করে। আমরা নিজেদের তথাকথিত আধুনিক হবার নামে তাদের অনেক কিছু অনুকরণ করি। কিন্তু এ অনুকরণের ফলে আমাদের কোনো নিজস্বতা থাকে না। বরং আমাদের মাঝে এগুলোর প্রভাবে গড়ে ওঠে একটা ঠুন্কো আধুনিকতা। যে আধুনিকতার অভাব থাকে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের।

নিজস্ব ঐতিহ্য-সংস্কৃতিতে অগ্রসর হলে তাতে কোনো মিথ্যে আবরণ থাকে না। থাকে না কোনো জড়তা। থাকে না অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা। অন্যের যা কিছু ভাল, তা গ্রহণ করা খারাপ নয়। তবে অবশ্যই সেগুলো আমাদের সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে মানানসই হতে হবে । নিজস্ব সংস্কৃতির পরিসরে বিচরণ করলে কোনো কু প্রভাব আমাদের উপর মুখোশের মতো চেপে বসতে পারে না। অন্যের সবকিছু নিয়ে যদি আমরা মুখোশ পরিধান করি, তাহলে আমরা আমাদের নিজস্বতাকে আড়াল করলাম। আমাদের স্বকীয়তাকে নিজ হাতে ধ¦ংস করলাম। নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের মুখশ্রীকে আরো উজ্জল করে তোলে ।

সর্বোপরি, আমরা না হতে পারছি বিদেশি না হতে পারছি স্বদেশি। একটি মিশ্র আবরণ আমাদের ঘিরে রেখেছে।