প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত, বাঁচিবার অধিকার তাহারই

বেঁচে থাকতে চাইলে মরণকে তুচ্ছ বিবেচনা করতে হবে। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য হাসিমুখে যারা জীবন উৎসর্গ করেন, তারাই কেবল অমরত্ব লাভের অধিকারী হয়। দেশ, জাতি ও ধর্মের জন্য যারা প্রাণ দেয়, পৃথিবীতে অমরত্ব কেবল তারাই প্রাপ্য হয়। বলিষ্ঠ প্রত্যয়ের মধ্যেই জীবনের সার্থকতা।

মানুষ যদি মর্যাদা সহকারে বাঁচার চেষ্টা না করে তাহলে জীবনের সার্থকতা ফুটে ওঠে না। সে বাঁচা মৃত্যুর সামিল। আর মর্যাদা সহকারে বাঁচতে হলে সমস্ত বিপদ-আপদ সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। বিপদ ও মৃত্যুকে যে এড়িয়ে চলতে চায় সে কাপুরুষ। এ ধরনের মানুষের জীবনে পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না। মৃত্যুর পরও অনেকে মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। জীবনে সাফল্য অর্জন করতে হলে মৃত্যু-ভয়কে জয় করতে হবে, মরণকে উপেক্ষা করে নিজেকে মহৎ কাজে আন্তনিয়োগ করতে হবে। সাহসের সাথে বেঁচে থাকাই হচ্ছে প্রকৃত বাঁচা। প্রবাদ আছে- শিয়ালের মতো হাজার দিন বেঁচে থাকার চেয়ে বাঘের মতো একদিন বেঁচে থাকাও অনেক ভাল। আর এভাবে মৃত্যু হলেও সে মৃত্যু হয় অহংকারের – এ মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই মানুষ হয় চিরস্মরণীয়। সে হয় যথার্থ মানুষ। মৃত্যুকে সে বন্ধু বলে বুকে আঁকড়ে ধরতে চায়। ফ্রাঙ্কলিনের ভাষায়, “মানুষ না মরা পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে জন্ম লাভ করে না।” কারণ যাঁরা পৃথিবীতে অমরত্বের আসন অলকৃত করে আছেন, চির বাঁচা বেঁচে আছেন মানুষের মনে; তাঁরা সবাই মহান মৃত্যুকে বরণ করেছেন মহত্ত্বপূর্ণ কাজে।

একমাত্র বিরোচিত মৃত্যুই মানুষের এ আকাক্সক্ষাকে অমরত্ব দান করে। যেমন করে আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন  ক্ষুদেরাম, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। এঁরা মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে জীবনকে উৎসর্গ করে মানুষের মাঝে অমরত্ব হয়ে আছেন।