জাতীয় জীবনে সন্তোষ এবং আকাঙ্ক্ষা দুইয়ের মাত্রা বাড়িয়া গেলে বিনাশের কারণ ঘটে

আকাক্সক্ষা মানুষকে সামনে টেনে নেয়। আকক্সক্ষা না থাকলে প্রাপ্তির আনন্দের সুযোগ থাকে না। সন্তুষ্টি লাভের জন্য আকাক্সক্ষা থাকতে হয়। মূলত আকাক্সক্ষাই ব্যক্তিগত জাতীয় ও জীবনের উন্নতির মূল। আকাক্সক্ষা শেষ হয়ে গেলে জীবনের গতি থেমে যায়। আবার আকাক্সক্ষার মাত্রা যদি খুব বেশি হয়, তাহলে লক্ষে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

জাতীয় জীবনে সšেতাষ এবং আকাক্সক্ষাÑএ দু’য়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ উচ্চাশা করে। কখনও আংশিক কখনও সম্পূর্ণ আবার কখনও একটুও পূরণ হয়না। তবুও মানুষ আশার আকাক্সক্ষা বুকে লালন করে। আশাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। আশা না থাকলে জীবনের কোন অর্থ থাকে না। সেজন্য সহজে সন্তুষ্টি লাভ করা উন্নতির অন্তরায় বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। যেমনÑ শিক্ষার্থীরা সবাই যদি এ+ প্রত্যাশা লালন করে, তাহলে নিদেনপক্ষে সে এ গ্রেড তো পাবে। কিন্তু কোন শিক্ষার্থীর মধ্যে যদি এ+ এর আকাক্সক্ষাই না থাকে তাহলে তার পক্ষে এ-(এ মাইনাস) পাওয়াও প্রায় সম্ভব নয়।

অনুরূপভাবে, জাতীয় জীবনেও উন্নতির জন্য আকাক্সক্ষা থাকা জরুরি। যে জাতি সুনির্দিষ্ট লক্ষ অর্জনের প্রত্যাশায় চেষ্টা চালাবে, সে জাতি উন্নতি অর্জন করবেই। উন্নত বিশ্বের উন্নতির মূলে লক্ষ করা যায় তাদের তীব্র আকাক্সক্ষা। চীন, মালয়েশিয়া, দুবাই এগিয়ে যাবার মূলে তাদের জাতীয় জীবনের আকাক্সক্ষা। অন্যদিকে অন্নুতদেশগুলির পিছিয়ে পড়ার মূলে তাদের প্রবল আকাক্সক্ষার অভাব।

তবে একথাও সত্যি, ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে আকাক্সক্ষা পরিতৃপ্তির মাত্রা থাকা জরুরি। বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না থাকলে আকাক্সক্ষা পূরণ হবার নয়। আবার অবাস্তব প্রত্যশা উভয় ক্ষেত্রেই হতাশা বাড়ায়। তাই ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে আকাক্সক্ষা পূরণ হবার সাথে যৌক্তিক বাস্তবতা থাকা প্রয়োজন।

আবার, যেখানে সন্তুষ্টি সেখানেই স্থবিরতা। অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকা ভালো। কিন্তু সন্তুষ্টির মাত্রা থাকা প্রয়োজন। কারণ অতিমাত্রার সন্তুষ্টি ও পরিতৃপ্তিবোধ অলস ও নিস্ক্রিয় করে তোলে। সেক্ষেত্রে কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন ব্যর্থ হয়। তাই, আমাদের মনে রাখতে হবে অবাস্তব কোন কিছুই সুফল বয়ে আনে না।