অতি নাটক ও অতিশয়োক্তি অলঙ্কার 

অতি নাটক 
মেলোড্রামার প্রতিশব্দ হিসেবেই বাংলা অতি নাটক শব্দের প্রচলন শুরু । বিভিন্ন সময় অতিনাটকের বিভিন্ন রূপের পরিচয় পাওয়া যায় । শুরুতে সংগীতহুল নাটককেই মেলোড্রামা বলা হতো । গ্রিক Melost শব্দের অর্থ ‘গান’ কথা থেকেই মেলোড্রামার উৎপত্তি । প্রথমে মেলোড্রামা বলতে সাধারণত সংগীতবহুল নাটককেই বোঝাতো । মধ্যযুগে ইতালিতে সংগীতবহুল যেসব নাটক লেখা হতো তাকেই মেলোড্রামা বলেই ধরে নেয়া হয়েছিলো । অপেরা এবং মেলোড্রামা সমার্থক এমন ধারণাই প্রচলিত ছিলো । ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দেও জার্মানিতে মেলোড্রামা বলতে অর্কেষ্টা সহযোগে গীত হতে পারে- এমন নাটককে বোঝাতো । পরে যেসব নাটকে গান, দৃশ্য এবং ঘটনার আধিক্য থাকে তাদেকেই মেলোড্রামা বলে চিহ্নিত করা হতো । এরপরে যে নাটকে অদ্ভুত অস্বাভাবিক ঘটনাবলী সন্নিবেশিত আছে- তাই মেলোড্রামা বলে অভিহিত হতো।
ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে ইংরেজি নাটকেও প্রচুর সংগীত সংযুক্ত হতো । নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যের আবেগময় মঞ্চায়নের জন্য যেমন সংগীত যুক্ত হতো , তেমনি নাটক মঞ্চায়নের আইনগত বাধা এড়াবার জন্য এর আশ্রয় নেয়া হতো । এই সময়ে লন্ডনের ‘ডুরি লেইন’ এবং কিভেট গার্ডেন’ – এর থিয়েটারগুলি ছাড়া অন্য কোথাও নাটক মঞ্চায়ণের অনুমতি ছিলো না । কিন্তু বিনোদনমূলক সংগীতানুষ্ঠান করার অনুমতি ছিল সর্বত্র । এই কারণে সেই সময়ে সংগীত পূর্ণ নাটকই মেলোড্রামা  হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ।
দীর্ঘ পথপরিক্রমায় মেলোড্রামা বর্তমানে এক নতুন অভিধায় পরিচিত হচ্ছে তাহলো অতিনাটক । বর্তমানে অতিনাটকীয় অতিশযাপূর্ণ অবিশ্বাস্য অসম্ভব কর্মকাণ্ডের সমাহার সংযুক্ত নাটকই অতিনাটক না মেলোড্রামা নামে পরিচিত রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা ও রাণী‘ (১৮৮৯) অতিনাটকের পর্যায়ভুক্ত । কল্যাণ মিত্রের ‘দায়ী কে’ ( ১৯৬০ ) নাটকেও অতিনটকীয়তার লক্ষণ স্পষ্ট । কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন’ নাটককেও এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করতে চান নাটকের  গীতিময়তার জন্যই ।
অন্য এক মতে, রোমাঞ্চকর, গুরুগম্ভীর কৌতুকপূর্ণ ঘটনা সহযোগে এবং অসঙ্গত গানে ভরপুর একশ্রেণীর নাটকের নাম ট্র্যাজেডির অতি স্কুল অপভ্রং অথচ জনপ্রিয় রূপকেই তাঁরা মেলোড্রামা বলতে চান । মেলোড্রোমায় ট্র্যাজেডির সব উপাদানই থাকবে কিন্তু নাট্যকার তার রচনাকে অধিক জনপ্রিয় করার লোভে কাহিনীর ভিতরগত সঙ্গতির বাইরে বাহ্যিক বিষয়াদির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন । নাট্যকার ট্র্যাজেডি রচনা করতে গিয়ে নিজের অক্ষমতার জন্য অথবা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের লোভে ঘটনাকে চমকপ্রদ করে  উপস্থাপনা করে বিষয়টিকে মেলোড্রামায় পর্যবসিত করেন । এই শ্রেণীর নাটকে চরিত্র নির্মাণের চেয়ে গান, দৃশ্য এবং রোমাঞ্চকর কাহিনীর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় বেশি। ঘটনার ঘনঘটা, অভিনয়ের আতিশয্য নাটকের ভাব- গাণ্ডিকে হালকা চটুল করে তোলে, যা স্বাভাবিকভাবে সার্থক চরিত্র নির্মাণে বঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এই মতে ট্র্যাজেডির সার্বজনীনতা হারালেই তা মেলোড্রামায় পর্যবশিত হয়। অর্থাৎ ট্র্যাজেডির গুণ বৈশিষ্ট্যের স্খালনই মেলোড্রামা বা আতি নাটক । অতি নাটক কথাটির যথার্থতা বোধ করি এখানেই । নাটকের চেয়ে অতি বা অতিরিক্ত কিছু তা- ই আতি নাটক । তা হতে পারে নাটকের সাথে অতিরিক্ত কিছু বাদ্য-বাজনা বা সংগীতের সংযোজন বা অন্যকোনো ভাবে নাটকের স্বাভাবিকতা থেকে ৷ বিচ্যুতি বা দূরে অবস্থান ।
অতিশয়োক্তি অলঙ্কার
আতিশয্যপূর্ণ বা সীমাতিরিক্ত কথা থেকে অতিশয়োক্তি কথাটির প্রচলন। তার অর্থ অতিশয়োক্তি অলঙ্কারের মধ্যে অতিশয্যপূর্ণ বা সীমাতিরিক্ত কিছু থাকবে । এই শ্রেণীর অলঙ্কারে উপমেয় অর্থাৎ বিষয়ের চেয়ে উপমান অর্থাৎ বিষয়ীর অবস্থান আতিশয্যপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা পায় । অর্থাৎ কবি কল্পনায় যখন উপমান উপমেয়কে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে উপমানের চরম প্রতিষ্ঠা ঘোষিত হয় এবং সাধারণ উপমেয় উল্লিখিত হয় না, তখন  অতিশয়োক্তি অলঙ্কারের সৃষ্টি হয়। যেমন-
সোনার টোপর শোভে মাথার উপর।
এখানে ‘সোনার টোপর পরা টিয়ে’ উপমানের একক ও উজ্জ্বল উপস্থিতি কিন্তু উপমেয় ‘আনারস’ অনুল্লিখিত।
আটোমেটিজম : এই মতবাদের উদ্ভব বিংশ শতাব্দীতে । এটিকে নতুন কোনো মতবাদ না বলে সুররিয়ালিজম বা অধিবাস্তবতাবাদেরই একটি রীতি বলা যায় । যেমন অধিবাস্তবতাবাদের আর একটি রীতি আটোমেটিজন- এর স্বগোত্র এ্যাসোসিয়েশনিজম (Associationism) । গারট্রেড স্টেইনকে অটোমেটিজমের জনক বলা যায় । কব্যের এক বিশিষ্ট রচনারীতিতেই এই মতবাদের প্রয়োগ দেখতে পাওয়া যায়।
অধরচাঁদ
যে চাঁদ সহজে ধরা দেয় না; বাইলদের আত্মারূপী আল্লাহ্, সহজ মানুষ, মনের মানুষ। অধরাকে ধরা  বা  উপলব্ধি করাই বাইলের আসল কাজ। বা্নেইদের গানে অধরচাঁদের নামন্রতর আছে। ভাবের মানুষ, সহজ মানুষ, আলোক মানুষ ইত্যাদি এ হলো ব্যাক্তির অন্তরতম সত্ত্বা।
অধিকারী
যাত্রার দলে অধিনায়ক কে অধিকারী বলা হয়। তিনি একাধারে পালাকার (যাত্রা রচয়িতা), অভিনেতা, গীতিকার