অতিপ্রাকৃত সাহিত্য

অতিপ্রাকৃত সাহিত্য : জীবনের ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটে— যার কোনো ব্যাখ্যা বুদ্ধির সাহায্যে দেয়া যায় না, বিজ্ঞানশক্তির সাহায্যেও যে – সব ঘটনার বিশ্লেষণ করা যায় না- সেই রকম ঘটনাকে অতিপ্রকৃত ঘটনা বলা হয় । সাহিত্যে অতিপ্রাকৃতের একটা বিশিষ্ট স্থান আছে, ছোটোদের সাহিত্যে অবশ্য অতিপ্রাকৃতকে খুব বেশি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়, তবে বড়োদের জন্যে রচিত সাহিত্যেও অতিপ্রাকৃত বিষয়ের অবতরণা করা হয়ে থাকে । রূপকথার প্রায় সমস্ত কাহিনীই অতিপ্রাকৃত ঘটনায় গড়া, ভূতের গল্পের রসই হলো অতিপ্রাকৃতকেন্দ্ৰিক । এছাড়াও সাহিত্যে অতিপ্রাকৃতের ব্যবহার আছে । শেক্সপীয়রের নাটকে অতিপ্রাকৃতের ব্যবহার আছে, হ্যামলেট, ম্যাকবেথ এবং জুলিয়াস সিজার নাটকে । বঙ্কিমচন্দ্রের ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে শৈবলিনীর প্রায়শ্চিত্ত বর্ণনার মধ্যে অতিপ্রাকৃত রসের সন্ধান পাওয়া যায়; শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত প্রথমপর্বে শ্মশানের বর্ণনার মধ্যেও অতিপ্রাকৃত রস রয়েছে- যদিও এখানে তিনি ব্যাখ্যাযোগ্যভাবে শ্মশানের পরিবেশ বর্ণনা করেছেন, তবু মনে হয় শ্মশানে শ্রীকান্তকে কোনো এক অদৃশ্য শক্তি বুঝি পেয়ে বসেছে । অবশ্য মানব মনের আদিম ভয়ই শ্রীকান্তকে অভিভূত করেছিলো— এই বৈজ্ঞানিক চিন্তার পটভূমিতে এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিলেও সবটা মিলে । পাঠকের মনে অদেখা, অজানা অলৌকিক কিছুর উপস্থিতি ঘটে । তাই এখানে অতিপ্রাকৃতের সন্ধান আছে বলতে হবে । রবীন্দ্রনাথের ক্ষুধিত পাষাণ ’ অতিপ্রাকৃত রসের উদাহরণ । লোকসাহিত্য, বিশেষ করে মঙ্গলকাব্য এবং ব্রত কথায় অতি প্রাকৃতের ব্যবহার খুব বেশি । ধর্মের প্রতি প্রবল বিশ্বাসের জন্যেই অতিপ্রাকৃত ব্যবহৃত হয়েছে ।