অক্ষরবৃত্ত : সবচেয়ে ধীর লয়ের ছন্দ অক্ষরবৃত্ত। এই ধীর লয়ের কারণে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ পড়তে একটা অতিরিক্ত তান বা সুরের সৃষ্টি হয়। তাই অক্ষরবৃত্ত ছন্দ তান প্রধান। মধ্যযুগের বাংলা কবিতায় অক্ষরবৃত্ত ছন্দের উপস্থিতি সর্বাধিক। এই সময় এই ছন্দের নাম ছিল পয়ার। আট এবং ছয় মাত্রায় বিভক্ত চৌদ্দ মাত্রার দুইটি সমিল চরণ; প্রথমটির শেষে এক দাঁড়ি, ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এই ছিল পয়ারের একমাত্র চেহারা। পরবর্তী সময় এর কিছুটা পরিবর্তন হয়ে ছয়, আট বা দশ মাত্রায় মূল পর্ব বিভাজন হয়ে থাকে। অক্ষরবৃত্ত ছন্দের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন-

ক. প্রতিটি অক্ষর বা Syllable -এ এক মাত্রা

খ. শব্দ ধ্বনির অতিরিক্ত একটা তাল বা সুর সৃষ্টি

গ. শব্দের শেষের বদ্ধাক্ষর দুই মাত্রার

ঘ. সমাসবদ্ধ শব্দের প্রথম বদ্ধাক্ষর প্রয়োজনে এক বা দুই মাত্রার

ঙ. যুক্ত ব্যঞ্জনের উচ্চারণ হয় সংশ্লিষ্ট, ফলে পূর্ববর্তী অক্ষর দ্বিমাত্রিক বা দীর্ঘ হবার সম্ভাবনা থাকে না; ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নানা রূপভেদ লক্ষ করা যায়। যেমন- পয়ার, মহাপয়ার, প্রবহমান পয়ার, ত্রিপদী, চৌপদী, দিগক্ষরা, একাবলী, সনেট, অমিত্রাক্ষর ইত্যাদি।